শহিদুল ইসলাম: রাজবাড়ীর কালুখালীতে কানুনগোর চোখ ফাঁকি দিয়ে রেলওয়ের জায়গায় পাকা স্থাপনা তৈরি করছে একটি ভূমিগ্রাসী চক্র। দখলকৃত সম্পত্তির স্থানীয় বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। তবে এ কাজে মাত্র ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছেন দখলদারেরা।
সরেজমিনে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলাধীন রতনদিয়া গ্রামে রেলওয়ের ২২২/৮ নম্বর খুঁটির সামনের কৃষিজমিতে পাকা স্থাপনার কাজ করতে দেখা যায়। কাজ চলাকালে কর্মরত শ্রমিকরা জানান, রতনদিয়া গ্রামের মৃত কনিরদ্দিন বিশ্বাসের পুত্র ওহাব বিশ্বাস এ কাজ করছে।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সবকিছু চুপচাপই ছিল। এরই মাঝে সাংবাদিকরা কাজের ছবি তুলতে গেলে বাধে বিপত্তি। মারমুখী হয়ে ছুটে আসে ওহাব বিশ্বাসসহ কতিপয় দুর্বৃত্ত। তারা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয় ও ছবি তুলতে বাধা দেয়।
অনেক বুঝিয়ে ওহাব বিশ্বাসকে শান্ত করা হয়। শান্ত হলে সে জানায়, “৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে রাজবাড়ীর কানুনগো আমাকে এই জমির বাণিজ্যিক লিজ প্রদান করেছে। তাই ঘর তুলছি।”
বিনয়ের সঙ্গে তার লিজের কাগজ দেখতে চাইলে আবারও চড়াও হয় ওহাব। সে জানায়, “আপনারা কাগজ দেখার কে? বাড়াবাড়ি করলে ঝামেলা হবে কিন্তু।” তাকে পুনরায় শান্ত করা হলে সে জানায়, “কানুনগো অফিসের ৪ স্যার এসে আমার থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে। তারা বলেছে, পূজার ছুটির মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে, নইলে ঝামেলা হবে।”
বৈধ লিজে ঝামেলা কেন—জানতে চাইলে আবারও চড়াও হন ওহাব বিশ্বাস।
এ ব্যাপারে রাজবাড়ীর কানুনগো অফিসের মুঠোফোনে কল দিলে কানুনগো জানান, ওহাব বিশ্বাস নামে কালুখালীর রতনদিয়া গ্রামের কাউকে কোনো জমি লিজ দেওয়া হয়নি। কেউ অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক রেলওয়ের জমি দখল করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


