কুমারখালীতে জমি নিয়ে বিরোধে নারীকে মারধরে হত্যার অভিযোগ,

কুমারখালীতে জমি নিয়ে বিরোধে নারীকে মারধরে হত্যার অভিযোগ,

পাংশা নিউজ সমগ্র বাংলাদেশ
শেয়ার করুন:
প্রকাশ:
কুমারখালীতে জমি নিয়ে বিরোধে নারীকে মারধরে হত্যার অভিযোগ,

কুমারখালীতে জমি নিয়ে বিরোধে নারীকে মারধরে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২

কুষ্টিয়ায় প্রতিপক্ষের থাপ্পড়ে নারী নিহত, গ্রেপ্তার ২

মোঃ নয়ন শেখ কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের মারধরে এক নারী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) ভোরে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নাছিমা বেগম (৪২) ওই এলাকার ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলামের স্ত্রী। এ ঘটনায় বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।

এ ঘটনায় দুপুরে নিহতের বড় ছেলে নাসির হোসেন বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামি করে কুমারখালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ সকালে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করে। পরে তাদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আদালতে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন — উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকার মৃত সুপাইয়ের ছেলে মিঠু হোসেন (৪৮) ও সুদে শেখের ছেলে রিপন শেখ।

পুলিশ, এলাকাবাসী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বাটিকামারা মৌজায় ১০৫ নম্বর দাগে প্রায় ২৫ শতাংশ জমি রয়েছে নিহত নাছিমা, তার স্বামী শহিদুল ইসলাম ও তাদের স্বজনদের। সেখানে প্রায় ৪৩ বছর ধরে বসবাস করছেন তারা। সম্প্রতি ওই জমি নিজেদের বলে দাবি করেন একই এলাকার মৃত জনির উদ্দিনের তিন ছেলে মোমিন শেখ (৫৫), মামুন হোসেন (৫০) ও সেলিম হোসেন (৬০)। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, তবুও প্রতিপক্ষের মোমিন তার স্বজন ও লোকজন নিয়ে সোমবার ভোর ৫টার দিকে নাছিমার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু করেন এবং জমি দখলের জন্য একটি ছাপড়া ঘর তৈরি শুরু করেন। এ সময় বাধা দিলে আসামিরা নাছিমাকে চড়-থাপ্পড় ও মারধর করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেয় ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের মা আলেয়া খাতুন আহাজারি করে বলেন, "আমি জানের বদলে জান চাই।য় যেভাবে আমার মেয়েকে মেরেছে, সেভাবে বিচার চাই।"

নাছিমার স্বামী শহিদুল ইসলাম বলেন, "গতকাল রাতে মিঠু ফোন দিয়ে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। না দিলে বাড়িঘর ভাঙচুর করে দখলের হুমকি দিয়েছিল। সকালে তাই করেছে। জমি দখল করতে এসে আমার স্ত্রীকে হত্যা করেছে। আমি আসামিদের ফাঁসি চাই।"

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোমিনের স্ত্রী রহিমা খাতুন বলেন, "সকালে আমরা জমি দখল করতে গিয়েছিলাম। তখন বেড়া খোলার শব্দ শুনে নাছিমা স্ট্রোক করেছে। আমরা তাকে মারিনি।"

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, "জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নারীকে হত্যার অভিযোগে থানায় একটি হত্যা মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।"

শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার নাম ও মন্তব্য লিখুন। মন্তব্য যাচাইয়ের পর প্রকাশ করা হবে।