মানববন্ধ

মানববন্ধ

পাংশা নিউজ সমগ্র বাংলাদেশ
শেয়ার করুন:
প্রকাশ:
মানববন্ধ

মানববন্ধন থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলে ৩০ কোটি টাকার দরপত্রে ‘৫-৬ শতাংশ’ লেনদেনের অভিযোগ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ॥

কুষ্টিয়ায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রায় ৩০ কোটি টাকার দরপত্রে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন ঠিকাদাররা। গতকাল সকালে কুষ্টিয়া সরকারি ঠিকাদার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধন থেকে দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত জুলাই মাসে আহ্বান করা প্রায় ৩০ কোটি টাকার নয়টি গ্রুপের দরপত্রে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে আর্থিক লেনদেন হয়েছে। তাঁদের দাবি, দরপত্রের মোট মূল্যের আনুমানিক ৫ থেকে ৬ শতাংশ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়েছে। এভাবে আর্থিক চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম কয়েকজন ঠিকাদার নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (এনওএ) পেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

বক্তারা বলেন, দরপত্র মূল্যায়ন, ঠিকাদার নির্বাচন ও কার্যাদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। এজন্য দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদন, অনুমোদনসংক্রান্ত নথি, কার্যাদেশ এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাইয়ের দাবি জানান তাঁরা।

মানববন্ধনে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর দাপ্তরিক কার্যক্রম ও পূর্ববর্তী কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। বক্তাদের অভিযোগ, তিনি অনেক দিন নির্ধারিত সময়ের পরে কার্যালয়ে উপস্থিত হন এবং বেলা ৩টার দিকে অফিস ত্যাগ করেন। ছুটি গ্রহণ ও অনুমোদনের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।

এসব অভিযোগ যাচাইয়ে ডিজিটাল হাজিরা, হাজিরা রেজিস্টার, ছুটির আবেদন ও অনুমোদনের নথি পরীক্ষা করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলীর পূর্ববর্তী কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনসংক্রান্ত অভিযোগগুলোও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানান বক্তারা।

মানববন্ধন থেকে জানানো হয়, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে মোট আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দরপত্র প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত, এনওএ প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না তা যাচাই, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির কার্যক্রম পর্যালোচনা।

আবেদনকারীরা বলেন, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি তদন্তের ফলাফল ও গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় স্যানিটারি ল্যাট্রিন নির্মাণ, নলকূপ স্থাপনসহ জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। এসব প্রকল্পের সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জীবনমানের উন্নয়ন সরাসরি জড়িত। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম বা সরকারি অর্থের অপচয় হলে তা জনস্বার্থের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী কিংবা দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার নাম ও মন্তব্য লিখুন। মন্তব্য যাচাইয়ের পর প্রকাশ করা হবে।