শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানোর প্রতিবাদে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সহিংস রূপ নিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের হাজারো শিক্ষার্থী রাস্তায় নামেন। পরে শিক্ষার্থীদের বাইরের অনেকেও এতে যোগ দেন। বিক্ষোভকারীরা দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করেন, গাড়িতে আগুন দেন এবং সরকারি ভবনে হামলা চালান। লিমোজ শহরের ঐতিহাসিক টাউন হলটি ধ্বংস হয়ে গেছে।
বিক্ষোভ শুরুর সময় প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ব্রিটানি উপকূলের কাছে একটি যুদ্ধজাহাজে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন থেকে নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ দেখছিলেন। গত রোববার তিনি জনসমক্ষে বক্তব্য দেন, কিন্তু ততক্ষণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। দাঙ্গার পূর্বাভাস দিতে না পারা এবং পরিস্থিতি সামলানোর ব্যর্থতা নিয়ে সরকার রাজনৈতিক সব মহলের সমালোচনার মুখে পড়েছে।
প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সহিংসতা শুরুর আগেই মাখোঁর প্রতি জনসমর্থন নেমে এসেছিল মাত্র ১৫ শতাংশে। ২০১৭ সালে কট্টর ডানপন্থী নেতা মেরিন লো পেনকে হারিয়ে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন মাখোঁ। তিনি বিভক্ত ফ্রান্সকে ঐক্যবদ্ধ করা আর কট্টরপন্থীদের উত্থান ঠেকানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
প্রায় এক দশক পর পরিস্থিতি উল্টো দিকে গেছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লো পেন এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এগিয়ে আছেন। চলমান অস্থিরতা ফ্রান্সের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো
ছবি: Quintin Soloviev / Wikimedia Commons (CC BY 4.0)


