পাংশা সংবাদ ডেস্ক: রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে ১০৪ জন গ্রাহকের জমা রাখা প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় সাত আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। একই মামলার আরও ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজবাড়ী সদর আমলি আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হায়দার আলী এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম লাভলুর তথ্য অনুযায়ী, মামলার ১৩ আসামির মধ্যে সাতজন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে বিচারক তা নামঞ্জুর করেন। কারাগারে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ডাকঘরের লেটার রাইটার, পোস্টাল অপারেটর, প্যাকার কাম মেইল ক্যারিয়ার ও এমএলএসএস পদের কর্মী রয়েছেন বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়।

গ্রাহকদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তাঁরা ডাকঘরে আমানতের টাকা জমা দিলেও তাঁদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় সাধারণ সাদা স্লিপ, আর সেই টাকা ডাকঘরের কোষাগারে জমা পড়েনি। তৎকালীন পোস্টমাস্টারসহ কয়েকজনের যোগসাজশে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁদের দাবি।
ভুক্তভোগীদের পক্ষে গত ৩০ জুলাই একজন গ্রাহক বাদী হয়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। এর বাইরে ২ আগস্ট ডাক বিভাগের কুষ্টিয়ার পোস্ট অফিস পরিদর্শক (প্রশাসন) বাদী হয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে রাজবাড়ীর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে আরেকটি মামলা করেন।
আদেশের দিন সকালে জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা টাকা ফেরত এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন।
উল্লেখ্য, আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তি অভিযুক্ত হিসেবেই গণ্য।
ছবি: Iqbal Hossain / Wikimedia Commons (CC BY-SA 4.0) — প্রতীকী ছবি। তথ্যসূত্র: গণমাধ্যম সূত্র


