পাংশা সংবাদ ডেস্ক: শীতের শুরুতেই বাজারে আসা মুড়িকাটা পেঁয়াজের চাষ প্রতিবছর বাড়ছে। রাজবাড়ী, পাবনা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও রংপুরসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় এখন এই পেঁয়াজের আবাদ চলছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পাবনা কার্যালয়ের হিসাবে, চলতি মৌসুমে শুধু পাবনা জেলাতেই প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ লাগানো হচ্ছে বলে বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে জানা গেছে।
বীজ থেকে চারা না করে আগের মৌসুমের ছোট পেঁয়াজ বা গুটি সরাসরি জমিতে বসিয়ে এই পেঁয়াজ ফলানো হয়। ফরিদপুরের মসলা গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আলাউদ্দিন খানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পাতাসহ তোলা গুটির গলার ওপরের অংশ কেটে রোপণ করা হয় বলেই এর নাম মুড়িকাটা। তাঁর তথ্যমতে, দেশে বছরে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টন মুড়িকাটা পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়, যা মোট পেঁয়াজ উৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশ।

কৃষিবিদেরা জানান, অক্টোবর ও নভেম্বর এই পেঁয়াজ রোপণের উপযুক্ত সময়। কিছুটা উঁচু বা মাঝারি উঁচু দোআঁশ মাটিতে এটি ভালো হয়, তবে পানি জমে থাকা জমিতে চাষ করা যায় না। রোপণের মোটামুটি ৯০ দিনের মধ্যেই ফসল তোলা যায়, ফলে একই জমিতে পরে মরিচ, আলুসহ অন্য ফসলও আবাদ করা সম্ভব হয়।
মূল মৌসুমের পেঁয়াজ সাধারণত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে লাগানো হয় এবং মার্চ-এপ্রিলে বাজারে ওঠে। তার আগেই মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসায় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এটি সহায়ক বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞেরা। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বিবেচনায় সময়মতো এর আবাদ শুরু করা জরুরি বলেও মত দেন ড. আলাউদ্দিন খান।
কৃষকদের ভাষ্য, শীতের শুরুতে বাজারে আসে বলে এই পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক ভালো পাওয়া যায়। তবে কাঁচা অবস্থায় পাতাসহ তোলা হয় বলে এটি বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায় না, দ্রুত বিক্রি করে দিতে হয়। শীত মৌসুমে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি হলে লোকসানের ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন কেউ কেউ। দূরের জেলার অনেক চাষি রোপণের জন্য গুটি পেঁয়াজ পাবনা ও কুষ্টিয়া থেকে সংগ্রহ করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজবাড়ীতেও এবার জোরেশোরে মুড়িকাটা পেঁয়াজ রোপণ চলছে। জেলার আবাদ, খরচ ও দাম নিয়ে কৃষকদের দুশ্চিন্তার খবর পড়ুন: রাজবাড়ীতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ রোপণের ধুম, খরচ ও দাম নিয়ে চিন্তায় কৃষক।
ছবি: তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) / Wikimedia Commons (Public domain) — প্রতীকী ছবি। তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা।


