মানিকগঞ্জের ৩০০ বছরের ঘিওর পাটের হাটে এখনো কোটি টাকার বেচাকেনা

মানিকগঞ্জের ৩০০ বছরের ঘিওর পাটের হাটে এখনো কোটি টাকার বেচাকেনা

সমগ্র বাংলাদেশ
শেয়ার করুন:
প্রকাশ:

পাংশা সংবাদ ডেস্ক: তিন শতাব্দীর বেশি পুরোনো মানিকগঞ্জের ঘিওর হাটে প্রতি বুধবার এখনো কোটি টাকার পাট বেচাকেনা হয়। তবে নতুন নতুন হাটবাজার গড়ে ওঠা, পাটের আবাদ কমে যাওয়া এবং নদীভাঙনে জায়গা কমে আসায় ঐতিহ্যবাহী এই হাট আগের জৌলুস হারাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা।

মানিকগঞ্জের ৩০০ বছরের ঘিওর পাটের হাটে এখনো কোটি টাকার বেচাকেনা
ছবি: Frameofashik / Wikimedia Commons (CC BY-SA 4.0) — প্রতীকী ছবি

গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ধলেশ্বরী ও ইছামতী নদীর কাছে গড়ে ওঠা এ হাট ব্রিটিশ আমল থেকে চলছে। একসময় রাজবাড়ী, ফরিদপুর, পাবনা, টাঙ্গাইল ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে বড় নৌকায় করে পাট আনা হতো এখানে। এখান থেকে কেনা পাট নারায়ণগঞ্জ, খুলনা ও যশোরের পাটকলে যায়।

ব্যবসায়ীদের হিসাবে, এখনো প্রতি হাটে গড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার মণ পাট ওঠে। মানভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০০ থেকে ৫ হাজার ৩০০ টাকায়, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। তবে কৃষকেরা বলছেন, এবার বৃষ্টি কম হওয়ায় পাট পচানোর পানির অভাবে অনেক পাটের রং ভালো হয়নি, ফলে সবাই ভালো দাম পাননি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর মানিকগঞ্জে ৪ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ২৫০ হেক্টর বেশি। জেলায় এবার উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ৭৫০ মেট্রিক টন পাট।

হাটসংশ্লিষ্টদের মতে, ঘিওর হাটের ঐতিহ্য ধরে রাখতে নদীভাঙন রোধ, হাটের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এবং কৃষকদের পাট পচানোর সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ প্রয়োজন।

ছবি: Frameofashik / Wikimedia Commons (CC BY-SA 4.0) — প্রতীকী ছবি
তথ্যসূত্র: স্থানীয় গণমাধ্যম

শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন

আপনার নাম ও মন্তব্য লিখুন। মন্তব্য যাচাইয়ের পর প্রকাশ করা হবে।