পাংশা সংবাদ ডেস্ক: রাজবাড়ীতে ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান শেষে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের তুলনায় এবার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ এবং জেলেদের কারাদণ্ড—দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুব উল হক অভিযানের এই হিসাব নিশ্চিত করেছেন।

জেলা মৎস্য দপ্তরের হিসাবে, ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ৯৭টি অভিযান চালানো হয় এবং ১৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালত বসে। এ সময় ১৬ লাখ ৫৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ২৭৮ কেজি ইলিশ জব্দ হয়; জব্দ করা মাছ এতিমখানা ও দুস্থদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অবৈধভাবে মাছ ধরার দায়ে ৭৮টি মামলা হয়েছে, এর বাইরে ২৬ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হয়েছে। ৪৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও মোট ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দ মালামাল নিলামে বিক্রি করে পাওয়া গেছে ১ লাখ ১০০ টাকা।
২০২৫ সালের একই অভিযানে জেলায় ১৭২টি অভিযান ও ৫৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছিল। তখন ৩০ লাখ ১৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়, ১ হাজার ১১৮ কেজি ইলিশ জব্দ হয় এবং ১৭১ জন জেলে কারাদণ্ড পান। সেই হিসাবে এবার জাল জব্দ কমেছে প্রায় ১৩ লাখ ৬০ হাজার মিটার, আর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জেলের সংখ্যা কমেছে ১২৫ জন।
জেলার কয়েকজন সচেতন নাগরিকের অভিযোগ, এবারের অভিযান তুলনামূলক ঢিলেঢালা ছিল এবং নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও নদীর পাড়ে অস্থায়ী হাট বসিয়ে ইলিশ বিক্রি হয়েছে। তাঁদের মতে, নদীতে অভিযানের পাশাপাশি পাড়ের এসব হাট বন্ধেও পদক্ষেপ দরকার।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুব উল হকের ব্যাখ্যা, অভিযানের প্রথম সপ্তাহে নদীতে স্রোত বেশি থাকায় জেলেরা খুব একটা নদীতে নামেননি, তাই শুরুতে জাল জব্দ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা কম ছিল। অভিযানের মাঝামাঝি জেলেদের তৎপরতা বাড়লে অভিযানও জোরদার করা হয়। কিছু সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই তাঁদের কাজ করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ছবি (প্রতীকী): Musfiq munna / Wikimedia Commons (CC BY-SA 4.0)
তথ্যসূত্র: জেলা মৎস্য অধিদপ্তর, রাজবাড়ী; গণমাধ্যম সূত্র (ঢাকা পোস্ট)


