
পরিচিতি
কাজী সেলিম মাবুদ রাজবাড়ী জেলার পাংশা অঞ্চলের একজন সুপরিচিত সাংবাদিক, কবি, গীতিকার, সুরকার, নাট্যকার ও সংস্কৃতিকর্মী। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সংবাদপত্রের পাতায় যেমন মানুষের কথা তুলে ধরেছেন, তেমনি কবিতা, গান ও নাটকের মধ্য দিয়ে সমাজের আনন্দ-বেদনা, সংগ্রাম ও স্বপ্নকে শিল্পের ভাষা দিয়েছেন। সাংবাদিকতা ও সৃজনশীলতার এই যুগল সাধনাই তাঁকে পাংশার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটি বিশেষ পরিচিতি এনে দিয়েছে।
পাংশা উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। গ্রামবাংলার সবুজ প্রকৃতি, নদী, মাঠ আর সাধারণ মানুষের সহজ-সরল জীবনযাপন তাঁর শৈশব ও মননকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। সেই মাটি ও মানুষের টানই পরবর্তীকালে তাঁর প্রতিবেদনে, কবিতার পঙ্ক্তিতে এবং গানের সুরে বারবার ফিরে এসেছে। তাঁর কাজে তাই একদিকে আছে বাস্তবতার নির্মোহ পর্যবেক্ষণ, অন্যদিকে আছে মানুষের প্রতি গভীর মমতা।
সাংবাদিকতা
খুব অল্প বয়স থেকেই কাজী সেলিম মাবুদ সাংবাদিকতাকে জীবনের প্রধান পেশা ও ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেন। মাঠপর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি স্থানীয় জনজীবনের নানা সমস্যা, উন্নয়নের অসঙ্গতি, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং সাধারণ মানুষের অধিকারের প্রশ্ন সাহসের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। তাঁর কাছে সাংবাদিকতা কেবল খবর পরিবেশনের কাজ নয়; এটি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা, সত্যের প্রতি অঙ্গীকার এবং ক্ষমতার কাছে সঠিক প্রশ্ন তোলার দায়িত্ব।
তিনি বিশ্বাস করেন, স্থানীয় সংবাদই একটি জনপদের প্রকৃত দর্পণ। একটি এলাকার রাস্তা, স্কুল, হাসপাতাল, কৃষি, নদী কিংবা আইনশৃঙ্খলার খবর সেখানকার মানুষের জীবনে সবচেয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই পাংশা, কালুখালী ও রাজবাড়ীর মানুষের খবর নির্ভুল, যাচাইকৃত, ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীলভাবে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াকে তিনি নিজের পেশাগত ও নৈতিক দায় হিসেবে দেখেন।
সাহিত্যকর্ম: কবিতা, গল্প ও নাটক
সাংবাদিকতার ব্যস্ততার মাঝেও সাহিত্যচর্চা কখনো থেমে থাকেনি। কবিতা, গল্প ও নাটক—সাহিত্যের নানা শাখায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে লিখে চলেছেন এবং তাঁর রচনার সংখ্যা অসংখ্য। তাঁর কবিতায় প্রকৃতির প্রতি অনুরাগ, মানবিক সম্পর্কের টানাপোড়েন, সমাজের অসংগতি এবং জীবনের গভীর দার্শনিক জিজ্ঞাসা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। সহজ শব্দে গভীর অনুভূতি প্রকাশ করার দক্ষতাই তাঁর লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
কবিতা ও গল্প মিলিয়ে তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ আটটি—“শুধু একা অরণ্যে”, “ছায়াপথ”, “কালো পাথরের পথে”, “পাহাড়ি জোছনা”, “কোন বসন্তে এসেছিলে তুমি”, “পাহাড়ি সীমানা পেরিয়ে”, “অনেক মৃত্যু যেখানে” ও “দীঘির জলে হারালে”। এ ছাড়া তিনি বহু নাটক রচনা করেছেন, যেখানে গ্রামীণ জীবন, সামাজিক বাস্তবতা ও মানুষের নৈতিক দ্বন্দ্ব উঠে এসেছে। মঞ্চ ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে তাঁর নাটক দর্শকের কাছে পৌঁছে সমাজসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।
কবিতা ও গল্প মিলিয়ে আটটি প্রকাশিত গ্রন্থ — প্রচ্ছদে ক্লিক করে বড় করে দেখুন।
শুধু একা অরণ্যেকাজী সেলিম মাবুদ ছায়াপথকাজী সেলিম মাবুদ কালো পাথরের পথেকাজী সেলিম মাবুদ পাহাড়ি জোছনাকাজী সেলিম মাবুদ কোন বসন্তে এসেছিলে তুমিকাজী সেলিম মাবুদ পাহাড়ি সীমানা পেরিয়েকাজী সেলিম মাবুদ অনেক মৃত্যু যেখানেকাজী সেলিম মাবুদ দীঘির জলে হারালেকাজী সেলিম মাবুদ
গান ও সুর
কাজী সেলিম মাবুদের সৃজনশীলতার আরেকটি উজ্জ্বল দিক হলো গান। তিনি অসংখ্য গান লিখেছেন, যেগুলোতে প্রেম, প্রকৃতি, দেশ, মানবতা ও জীবনের দর্শন নানা রূপে প্রকাশ পেয়েছে। তাঁর লেখা গান “এসেছি একা যাব একা” শ্রোতাদের হৃদয়ে গভীর আবেগ জাগিয়েছে এবং সর্বস্তরের মানুষের কাছে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। জীবনের একাকিত্ব ও অস্তিত্বের চিরন্তন প্রশ্নকে ছুঁয়ে যাওয়া এই গানটি আজও শ্রোতাদের মনে দাগ কেটে আছে।
গীতিকার হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পর বর্তমানে তিনি নিজের লেখা গানে নিজেই সুরারোপ করছেন। কথা ও সুর—দুটোই একই শিল্পীর হাতে তৈরি হওয়ায় তাঁর গানে ভাবনার গভীরতা ও সুরের আবেগ একসঙ্গে মিশে যায়। গীতিকার থেকে সুরকার হয়ে ওঠার এই যাত্রা তাঁর সৃজনশীল জীবনের নতুন এক অধ্যায়।
জীবনের একাকিত্ব ও অস্তিত্বের দর্শন ছুঁয়ে যাওয়া গান।
প্রেম, প্রকৃতি, দেশ ও মানবতার কথা।
বর্তমানে নিজের লেখা গানে নিজেই সুর করছেন।
সাংস্কৃতিক অঙ্গন
সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কাজী সেলিম মাবুদ একজন সক্রিয়, পরিচিত ও প্রভাবশালী মুখ। নাটক, সংগীত, কবিতা পাঠ ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করতে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করে চলেছেন। তাঁর বিশ্বাস, সংস্কৃতিই একটি সমাজের আত্মপরিচয় এবং মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার সবচেয়ে বড় শক্তি।
নতুন প্রজন্মের লেখক, শিল্পী ও সংবাদকর্মীদের উৎসাহ ও পরামর্শ দেওয়া তাঁর কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া এবং তরুণদের সৃজনশীলতাকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করাকে তিনি সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে দেখেন।
পাংশা সংবাদে ভূমিকা
বর্তমানে তিনি পাংশা সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে পাংশা সংবাদ সত্য, নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করছে। প্রতিটি খবর প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধা এবং কোনো ভুল হলে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সংশোধন—এই নীতিগুলোকে তিনি সম্পাদকীয় কাজের মূল ভিত্তি মনে করেন।
তাঁর দিকনির্দেশনায় পাংশা সংবাদ স্থানীয় খবরের পাশাপাশি জাতীয়, আন্তর্জাতিক, খেলাধুলা, বিনোদন, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতির খবর পাঠকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। তাঁর লক্ষ্য, পাংশা সংবাদকে পাংশা ও রাজবাড়ী অঞ্চলের মানুষের আস্থার একটি নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।


